বিরোধীহীন লোকসভায় পাশ শ্রম সহ মোট এগারটি বিল, আন্দোলন রাজ্যে, অনড় সরকার, বয়কটে বিরোধীরা

বিরোধীহীন লোকসভায় পাশ শ্রম সহ মোট এগারটি বিল, আন্দোলন রাজ্যে, অনড় সরকার, বয়কটে বিরোধীরা

নিউজ ডেস্কঃ- শ্রমবিধির মতো বিতর্কিত ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবের বিলও বিরোধীশূন্য লোকসভায় পাশ করিয়ে নিল মোদী সরকার। ফাঁকা মাঠে আজ রাজ্যসভায় ৭টি এবং লোকসভায় ৪টি বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে সরকার। 
                              রাজ্যসভার পাশ হওয়া সাতটি বিল হল-• অত্যাবশ্যক পণ্য আইনে সংশোধন বিল • ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধন বিল • কোম্পানি আইনে সংশোধন বিল • জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় বিল • রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় বিল • কর ও অন্য আইনে সংশোধন বিল • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফর্মেশন টেকনোলজি বিল
                             লোকসভার পাশ হওয়া চারটি বিল হল- • শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বিধি • কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা-বিধি • শিল্প সম্পর্ক-বিধি • জম্মু-কাশ্মীর সরকারি ভাষা বিল                
                             রাজ্যসভায় পাশ হওয়া ৭টি বিলের মধ্যে ৪টির বিরুদ্ধেই প্রস্তাব জমা দেওয়া ছিল সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের চার জনের। ১৭টি দলের সই সম্বলিত চিঠি গিয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি সময় দিলে বিরোধী নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে কৃষি সংক্রান্ত বিলটিতে সই না-করার অনুরোধ জানাবেন।
                             রাজ্যসভায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগে এবং বিতর্কিত জোড়া কৃষি বিল ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার লোকসভা ত্যাগ করেন বিরোধীরা। পরেও বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ‘ফেলে না-রেখে’ এ দিনই তড়িঘড়ি পাশ হল তিন বিধি।
                             সংস্কারের লক্ষ্যে ৪৪টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনের মধ্যে ১৫টিকে বর্তমান সময়ের জন্য অপ্রাসঙ্গিক বলে বাতিল করেছে কেন্দ্র। বাকি ২৯টিকে নিয়ে আসছে চারটি শ্রমবিধিতে। এর মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভায় মজুরিবিধি পাশ হয়েছে গত বছরই। এ দিন লোকসভায় আলোচনা ছিল বাকি তিনটির (শিল্পে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক বিধি, সামাজিক সুরক্ষা বিধি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চয়তা বিধি) বিষয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন শিক্ষানীতি তৈরি ও প্রয়োগের জন্য করোনা-কালেও তর সয় না এই সরকারের। কৃষি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক সংস্কারের পথে হাঁটার জন্যও এই সময়কে বেছেছে তারা।
                           প্রশ্ন উঠছে, এত কিসের তাড়া? যে আইনের সঙ্গে ৫০ কোটি শ্রমিকের ভাগ্য জড়িয়ে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করার আগে কেন বিরোধীদের আপত্তির জায়গাগুলি শোনার ধৈর্য দেখাবে না সরকার?
                          এখন ১০০ জন পর্যন্ত কর্মীর সংস্থায় ছাঁটাই করতে কিংবা সেখানে ব্যবসা বন্ধের তালা ঝোলাতে সরকারি অনুমতি লাগে না। বিলে প্রস্তাব, সেই সংখ্যা ৩০০ করার। যেখানে নতুন প্রযুক্তির কারণে এমনিতেই নিয়োগ কম, চাকরি বাড়ন্ত, সেখানে কোন যুক্তিতে সরকার এমন অবাধ ছাঁটাইয়ের রাস্তা মসৃণ করছে, সেই প্রশ্ন উঠল। শরিকরাও বলেছেন, ঠিকা নিয়োগের সর্বোচ্চ সময়সীমা বেঁধে না-দিলে, উল্টে কমে যাবে পাকা চাকরি। স্থায়ী নিয়োগের দিকে ঝুঁকতে চাইবে না কোনও সংস্থাই। প্রস্তাবিত নিয়মে, অন্য রাজ্যে গিয়ে মাসে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনে কাজ করা যে কেউই পরিযায়ী কর্মী।