জোড়া কৃষি বিলপাশে রণক্ষেত্র রাজ্যসভা, সাসপেন্ড ৮ সংসদ, সাফাই মোদীর

জোড়া কৃষি বিলপাশে রণক্ষেত্র রাজ্যসভা, সাসপেন্ড ৮ সংসদ, সাফাই মোদীর

   নিউজ ডেস্ক- বিরোধীদের একের পর এক সংশোধনীকে ধ্বনিভোটে নাকচ করে পাশ হয়ে গেল ‘দ্য ফার্মার্স প্রোডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রোমোশন অ্যান্ড ফেসিলিটেশন)’ এবং দ্য ফার্মার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন) এগ্রিমেন্ট অন প্রাইস অ্যাসিওরেন্স অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস বিল ২০২০।’
                               এভাবে বিল পাশ হওয়ার প্রতিবাদে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের বিরুদ্ধে ১২ বিরোধী দল অনাস্থা প্রস্তাব আনে। বিরোধীরা ঠিক করেছেন দুই সভাতেই এই কৃষক-কৃষি সংক্রান্ত বিল পাশ হয়ে গেলেও জারি থাকবে প্রতিবাদ। সেই মতো আজ সোমবার দুপুরেও হবে সংসদ চত্বরে ধর্না, বিক্ষোভ।
                                   এডিএমকে, জেডি-ইউ ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস ছাড়া কৃষি সংস্কারের জোড়া বিলে আর কেউই বিজেপির পাশে দাঁড়ায়নি। ভোটাভুটি হলে সরকার হেরে যাবে বা সামান্য ব্যবধানে জিতবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বিজেপি শিবিরে। তাই ঝুঁকি না-নিয়ে ধ্বনিভোটের মাধ্যমেই মোদী সরকার রাজ্যসভায় কৃষি বিল পাশ করান হল। আর তারই প্রতিবাদে প্রায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্যসভা।
                            রাজ্যসভায় কৃষি ক্ষেত্রের দু’টি বিল নিয়ে বিতর্কে প্রায় সব বিরোধী দলই দাবি তুলেছিল, এই বিলগুলি সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। বিল পাশ হওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন ভোটাভুটির দাবি তোলেন।  
                           তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন রাজ্যসভা পরিচালনার ‘রুল বুক’ নিয়ে ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের সামনে ছুটে যান। সভাপতির আসনে উঠে পড়ার চেষ্টা করায় মার্শালের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হল। ডেরেক চিৎকার করে বললেন, ‘এ হতে পারে না।’ বাকি বিরোধী দলের সাংসদরাও ছুটে আসেন। বিলের কপি ছিঁড়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। হরিবংশের টেবিলের নথিও ছেঁড়া হয় বলে সরকারের অভিযোগ। তাঁর টেবিলের তিনটি মাইক্রোফোন ভেঙে দেওয়া হয়। পড়ে গিয়ে পা কাটে ডেরেকের। ভিড়ের মধ্যে থেকে তাঁকে সরিয়ে আনেন সমাজবাদী পার্টির জয়া বচ্চন। সভাও মুলতুবি করে দেওয়া হয় মিনিট কুড়ি। বিল পাশে আপত্তি সত্ত্বেও ধ্বনি ভোটে বিল পাশ করানো হয়।
                          ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন সহ মোট ৮ জন সংসদ সদস্যকে আগামী ৭ দিনের জন্য রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হল। এছাড়া সাসপেন্ড করা হয়েছে, সঞ্জয় সিং, রাজু সাতব, কেকে রাগেশ, রিপুন বোরা, সৈয়দ নাসির হোসেন এবং এলামারান করিমকেও।  আজ এই নির্দেশ দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। পাশাপাশি ডেপুটি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবও খারিজ করে দেওয়া হল।
                        এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ট্যুইট, ‘কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে লড়াই করা আট সাংসদকে সাসপেন্ড করার ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনা স্বৈরাচারী সরকারের গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে তাচ্ছিল্য করার মানসিকতাকে প্রমাণ করে দিল। আমরা মাথা নোয়াব না। আমরা সংসদ ও রাস্তায় নেমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়ব।’
                        রাহুল গান্ধী ট্যুইটে লেখেন, বিল পাশ করে কৃষকদের মৃত্যু ফরমান জারি করল মোদি সরকার।
                  এর আগে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে নস্যাৎ করে কৃষির মতো রাজ্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রবল আপত্তি তোলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, সিপিএম, সিপিআইয়ের মতো দলের এমপিরা। সঙ্গে ছিল পাঞ্জাবের শিরোমণি অকালি দলও। এমনকী এভাবে বিল পাশের চেষ্টার সমালোচনা করে বিল দুটিকে সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিতে সরব হতে দেখা গেল মোদি সরকারের বন্ধুদল বলে পরিচিত বিজেডি এবং টিআরএসকেও।
    কিন্তু এদিন গৃহীত হয়নি বিরোধীদের কোনও প্রস্তাব। বন্ধ করে দেওয়া হল সরাসরি সম্প্রচারের অডিও।
               বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, আমিও একজন কৃষক। বিশ্বাস করি না, সরকার কৃষকদের ক্ষতি করতে পারে।
               আজ ‘ঐতিহাসিক’ বিল নিয়ে সোমবার প্রায় জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । তিনি বললেন, “কৃষকদের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ফসকে যাওয়ার ভয়ে মিথ্যা বলে ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধীরা”। মোদির কথায়, “একুশ শতকে দাঁড়িয়ে কৃষকদের আয় বাড়াতে, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে এই বিল অত্যন্ত সহায়ক। এই বিল আইনে পরিণত হতে দেশের যে কোনও প্রান্তে নিজেদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা”। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “বিরোধীরা নিজেদের স্বার্থে ভুল বোঝাচ্ছে। কৃষিমাণ্ডি বন্ধ হবে না। বরং সরকার এটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। যাঁরা আজ প্রশ্ন তুলছেন তাঁরাই এতদিন ন্যূনতম সহায়কমূল্যের বিষয় চাষিদের ঠকিয়েছেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষি দরদী”। একইসঙ্গে মোদির আশ্বাস, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিনিময় সরকার যেমন ফসল কিনত, তেমনই কিনবে।