সংশোধনে আইনজীবী স্বামী রজত দে হত্যায় যাবজ্জীবন স্ত্রী অনিন্দিতার, রায় বারাসত আদালতের

সংশোধনে আইনজীবী স্বামী রজত দে হত্যায় যাবজ্জীবন স্ত্রী অনিন্দিতার, রায় বারাসত আদালতের

নিউজ ডেস্ক:- আইনজীবী রজত দে (Rajat Dey) হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল বারাসত আদালত। সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে দোষী অনিন্দিতা পালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের রায়ে খুশি নিহত আইনজীবীর পরিবার।
                               সোমবারই তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বারাসতের ফাস্ট ট্র্যাক তৃতীয় কোর্টের বিচারক সুজিতকুমার ঝা। আর এদিন, বুধবার তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলেন বিচারক। সঙ্গে দশ হাজার জরিমানা অনাদায়ে ছ’মাসের জেল ও ২ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
                                গত ২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে নিউটাউনের ডিবি ব্লকের ফ্ল্যাটে আইনজীবী রজত দে’র অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। আইনজীবীর বাবা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাঁর আইনজীবী পুত্রবধূ অনিন্দিতা পাল (Anindita Paul)। সে-ই রজতকে পরিকল্পনামাফিক খুন করিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ওই বৃদ্ধ। যদিও অনিন্দিতা সেই দাবি খারিজ করে দেয়। প্রথমে জানায়, স্বামীর মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা। পরে আবারও নিজের বয়ান বদল করে। জানায়, তার স্বামী রজত আত্মঘাতী হয়েছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ অনিন্দিতাকে গ্রেপ্তার করে। হাই কোর্টে তার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।  সুপ্রিম কোর্ট থেকেও জামিন পায় অনিন্দিতা।
                          উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ও ২০১ (সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত অনিন্দিতা পাল নিজেও আইনজীবী।   অনিন্দিতা রায় শুনে এজলাসে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়ে দাবি করে, তার স্বামী আত্মহত্যাই করেছেন। শিশু সন্তানকে ফেলে আর জেলে যেতে চায় না বলেও রীতিমতো ধস্তাধস্তি করে সে। সে বলে, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বিশ্বাস করব ফাঁসানো হয়েছে।”বার বয়ান বদলে তদন্তে বিভ্রান্তি তৈরি থেকে সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপের চেষ্টা--গোড়া থেকেই নানা ভাবে নিজেকে আড়াল করতে চেয়েছিল অনিন্দিতা। কিন্তু সে-সব খামতি পূরণ করে অনিন্দিতার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ফেসবুক পোস্ট এবং গুগলে সার্চই অকাট্য প্রমাণ হয়ে উঠেছে।  শেষমেশ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এবার যাবজ্জীবন সাজাও পেলেন তিনি।