চার দশকের ভয়াবহতম অর্থসঙ্কট আসছে- এডিবি
নিউজ ডেস্ক:- ৪১ বছর পর ভারতের গোটা আর্থিক বছরে আবার ফিরছে নেগেটিভ আর্থিক বৃদ্ধিহার। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পর চলতি আর্থিক বছরে বৃহত্তম অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে চলেছে ভারত। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এই পূর্বাভাসই শুনিয়েছে তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে মাইনাস ৯ শতাংশ। শেষবার ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিহার নেগেটিভ হয়েছে ১৯৭৯-৮০ আর্থিক বছরে। সেই বছর একদিকে ছিল চরম অনাবৃষ্টি এবং অন্যদিকে ইরানে বিদ্রোহের কারণে তেলের আকাশছোঁয়া দাম। এই দুই সঙ্কটের কারণেই ওই বছর আর্থিক বৃদ্ধিহার হয়েছিল মাইনাস ৫.২ শতাংশ।
করোনা ও লকডাউনের আগেই ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিহার ছিল নিম্নগামী। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে আর্থিক বৃদ্ধিহার কমে হয়ে যায় ৪.২ শতাংশ। তার আগের বছর যা ছিল ৬.১ শতাংশ। করোনা ও লকডাউনের পর অর্থনীতি একপ্রকার বিপর্যস্ত। নতুন আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধিহার হয়েছে মাইনাস ২৩.৯ শতাংশ। এসঅ্যান্ডপি অথবা ফ্লিচ—সকলেই মাইনাস ১০ শতাংশের আশপাশে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিহার থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সেক্ষেত্রে
আন্তর্জাতিক লগ্নি বিপুল ধাক্কা খাবে। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি চরতম আকার নেবে। আর্থিক ঘাটতিও বাড়বে দ্রুত। এই সবকিছুর যোগফল, প্রভাব পড়বে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, জাপানের জাইকা ইত্যাদি ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলির লগ্নিতেও।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০ শীর্ষক একটি রিপোর্টে এডিবি বলেছে, লাগাতার এবং বিক্ষিপ্ত লকডাউনের ফলে ভারতে অর্থনৈতিক কাজকর্ম যেভাবে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে, সেটা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। বিপুল ক্ষতি হয়েছে অনেকগুলি সেক্টরে। এডিবি রিপোর্টে সবথেকে বেশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে অনুৎপাদী ঋণের পরিমাণ বিপুল বেড়ে যাওয়ার। অর্থাৎ এই লকডাউন ও অর্থনৈতিক স্তব্ধতার কারণে ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থাগুলি থেকে গ্রহণ করা ঋণ পরিশোধ যথেষ্ট ধাক্কা খাবে।
এডিবি সুপারিশ করেছে কম আয়ের শ্রেণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (লো ইনকাম গ্রুপ অ্যান্ড স্মল বিজনেস) বিশেষ সহায়তা আবশ্যক। সব মিলিয়ে আর্থিক গতিপ্রকৃতি দেখে এডিবির ধারণা, মাইনাস ৯ শতাংশের আশেপাশে থাকবে জিডিপি। এবার এডিবি ও অন্য আর্থিক রেটিং সংস্থা মনে করছে, বৃহত্তম আর্থিক বিপর্যয় আসছে—মাইনাস ৯ শতাংশ! যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে স্বাধীন ভারতের রেকর্ড।