ছেলের নৃশংস অত্যাচারে গঙ্গায় ঝাপ দিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা

ছেলের নৃশংস অত্যাচারে গঙ্গায় ঝাপ দিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা

নিউজ ডেস্ক:- বৃদ্ধ বিশ্বনাথ দাস ও সবিতা দাস শ্যামনগর পীড় তলার বাসিন্দা।এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে ওই বৃদ্ধ দম্পতির।মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে শেওড়াফুলিতে। বেসরকারি জুট মিলের অবসর প্রাপ্ত শ্রমিক বিশ্বনাথ বাবু। সামান্য পেনশন পান তিনি।বিশ্ব নাথ বাবুর ছেলে বিপুল দাস কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বিশ্বনাথ বাবুর ছেলে বিপুল দাস প্রায়শই বাবা মাকে মারধোর করত।রবিবার সকালেও তার অন্যথা হয়নি। এরপর বাবা মা ছেলের এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
                           বৃদ্ধ দম্পতি গঙ্গায় ঝাঁপ দিলে গঙ্গার ঘাটে উপস্থিত স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন।বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা প্রথমে কিছু বলতে না চাইলেও পরে কান্নায় ভেঙে পরেন ও গোটা বিষয়টি জানান।
এরপর জগদ্দল থানায় খবর দেওয়া হয়। ওসি দেবর্ষি সিনহা সুমিত সাহা নামে এক সাব ইন্সেপেক্টরকে পাঠান। তিনি নির্দেশ দেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।কিন্তু পুলিশের কাছে ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে মানা করেন অসহায় বাবা মা । বৃদ্ধ বিশ্ব নাথ বাবু বলেন 'ছেলে আমাদের ভীষন মারধর করে, মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। এই অত্যাচার কত সহ্য করা যায় ।আজ সকালে ছেলে খেতে চাই ছিলো।ওর মার একটু দেরি হচ্ছিলো খাবার দিতে তাই ছেলে সেই অপরাধে আমাদের বেধরক মারধর করে। আর সহ্য না করতে পেরে আমরা গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে গিয়েছিলাম।'
                        এরপর পুলিশ বিশ্বনাথ বাবুর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলেকে বুঝিয়ে বাবা মাকে বাড়িতে রেখে আসেন। পুলিশের তরফ থেকে বৃদ্ধ বাবা মা কে এবং প্রতিবেশীদেরকেও ফোন নম্বর দিয়ে আসেন, যাতে ওই বৃদ্ধ দম্পতির কোনো সমস্যা হলে প্রতিবেশীরা সব ঘটানা যেন পুলিশকে জানান তার জন্য আবেদন জানিয়ে যান।