স্থগিত অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাক্সিন ট্রায়াল ফের চালুর ইঙ্গিত, শোকজ 'কোভিশিল্ড' কে
নিউজ ডেস্ক- টিকা নেওয়ার পরই অপ্রত্যাশিত ভাবেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক স্বেচ্ছাসেবক! তার পরই ব্রিটেনে এই টিকার ট্রায়াল সাময়িক ভাবে স্থগিত করে দেয় ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট 'অ্যাস্ট্রা জেনিকা' (AstraZeneca) । সেরাম ইনস্টিটিউটকে নোটিশ পাঠায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI) ।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জেনেভায় হু-র প্রধান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, 'করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল আপাতত স্থগিত রেখেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এটা একটা ওয়েক আপ কল। আমাদের বুঝতে হবে যে ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা থাকবেই এবং তার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এই ধরনের ঘটনা ঘটবেই। আমাদের হতাশ হলে চলবে না।'
অ্যাস্ট্রাজেনেকার পর বৃহস্পতিবার ভারতেও স্থগিত হয়ে যায় করোনাভাইরাসের অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন 'কোভিশিল্ড'-এর (Covishield) ট্রায়াল। শেষে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে স্থগিত করার আশু নির্দেশ আসে, অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা টিকা Covishield-এর ট্রায়াল। সরকারি নোটিশের জেরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে কোভিশিল্ড তৈরিতে ভারতীয় পার্টনার সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।
অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিশিল্ডের ট্রায়াল বন্ধ করার পরেও দেশের ১৭টি স্থানে তার পরেও ট্রায়াল চালিয়ে যায় পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। বৃহস্পতিবারই এই বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়ে তাদের শোকজ করে সেন্ট্রাল ড্রাগ রেগুলেটর। সেরাম ইনস্টিটিউট জানায়, সংস্থা DCGI-এর সমস্ত নির্দেশ মেনেই চলবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই করোনা প্রতিষেধকের উত্পাদনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছিল ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট 'অ্যাস্ট্রা জেনিকা' (AstraZeneca), সাথে যুক্ত বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটও (Serum Institute of India) । টিকার (AZD1222) ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় সবটাই আপাতত থমকে গিয়েছে। ব্রিটেন, ভারত ছাড়াও আমেরিকা, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও চালু হওয়া অক্সফোর্ডের করোনা টিকার ট্রায়াল। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জেনার ইনস্টিটিউট এবং অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকা তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্বের এই পরীক্ষা চালাচ্ছে, যাতে ৫০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছা–পরীক্ষার্থী নিজেদের শরীরে এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এই প্রথম তাদের কারও মধ্যে অপ্রত্যাশিত সংক্রমণ ধরা পড়ল।
সুইডিশ সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার সিইও পাস্কাল সরিও জানালেন মেরুদণ্ডের স্নায়ুগ্রন্থিতে প্রদাহ অনুভব করেছেন এক পরীক্ষার্থী, যা জীবাণু সংক্রমণ থেকে হতে পারে। ডাক্তারদের ভাষায় একে বলে ‘ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস’।
যত দিন না তাদের বাণিজ্য–সহযোগী অ্যাস্ট্রাজেনেকা আবার পরীক্ষা শুরু না করে, তত দিন ভারতেও এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত না–হয়েই কেন ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা করা হচ্ছিল, এই মর্মে সিরাম ইনস্টিটিউটকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিসও দিয়েছে ডিসিজিআই। ব্রিটেনে এক পরীক্ষার্থীর শরীরে যে–সংক্রমণের লক্ষণ ধরা পড়েছে, সিরাম ইনস্টিটিউট কেন ডিসিজিআই–কে সেটা সময়মতো জানায়নি, জানতে চাওয়া হয়েছে, একই সাথে গাফিলতির শাস্তি হিসেবে ভারতের তৈরি কোভিড ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’–এর পরীক্ষা করার যে–ছাড়পত্রে সিরাম ইনস্টিটিউটকে ভূষিত করা হয়েছিল, তা কেন প্রত্যাহার করা হবে না?
চলতি বছরের শেষেই সম্ভবত বাজারে চলে আসবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি কোভিড ভ্যাকসিন। জানাল এই ওষুধের যৌথ গবেষক এবং প্রস্তুতকারক ব্রিটিশ–সুইডিশ সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এই আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থার সিইও পাস্কাল সরিও।