অনলাইন প্রতারনায় দুই মহিলার অ্যাকাউন্টে ৮ লক্ষেরও বেশি উধাও
নিউজ ডেস্ক- ফের সক্রিয় সাইবার ক্রাইমের ‘জামতাড়া দল’। ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানা (কেএলসি) এবং শ্যামপুকুর থানা এলাকার বাসিন্দা দুই মহিলার অ্যাকাউন্টে থেকে আট লক্ষ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয় তারা। অনলাইন প্রতারণার পুরো গ্যাংটি ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া থেকে পরিচালিত আসানসোল শিল্পাঞ্চলের আসানসোল এবং বার্নপুর এলাকার কুখ্যাত প্রতারক চক্র। ব্যাঙ্ক প্রতারণার এই ঘটনার তদন্তে নেমে রবিবার ও সোমবার জামতাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়ছে পাঁচজনকে, ও আসানসোল এবং বার্নপুরের রহমতনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রতারক চক্রের আরও দুই জনকে। কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে শুধু কেএলসি এবং শ্যামপুকুর থানার এই দুই প্রতারণার ঘটনাই নয়, জামতাড়ার এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে।
কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকার এক বহুতলের বাসিন্দা ডাঃ প্রত্যুষা সিনহা বসু মল্লিকের কাছে জুন মাসের প্রথম দিকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীর বয়ানে ফোন আসে। বলা হয়, প্রত্যুষাদেবীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। অ্যাকাউন্ট খোলা রাখতে চাইলে তাকে কিছু তথ্য দিতে হবে। ভদ্রমহিলা ঘাবড়ে গিয়ে প্রতারককে এটিএম কার্ড থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের অন্য সব নথি দিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ টাকা উধাও হয়ে যায়। মোবাইলে টাকা উঠে যাওয়ার মেসেজ আসে। তিনি ব্যাঙ্কে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর ব্যাঙ্কের তৎপরতায় প্রতারকের অ্যাকাউন্টে ১.৫০ লাখ টাকা যাওয়ার আগে তা আটকানো যায়। যে ব্যক্তি টাকা তুলেছে, তাকে চিহ্নিতও করা হয়। জানা যায়, ওই ব্যক্তি বার্নপুরের বাসিন্দা।
তদন্তকারীরা বলছেন, গত জুলাই মাসের ১৭ তারিখ শ্যামপুকুর থানায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার উত্তর বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা রুমা মজুমদার নামে এক মহিলা অনলাইন ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। প্রত্যুষাদেবীর মতোই একই কায়দায় রুমা দেবীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও তথ্য হাতিয়ে ৪.৬৩ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। ব্যাঙ্কে জানানোর পর এক্ষেত্রেও এক লক্ষ টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে যাওয়ার আগেই ঠেকানো সম্ভব হয়। কেএলসি এবং শ্যাম পুকুর থানার এই দুই প্রতারণার মামলার তদন্তভার যায় কলকাতা গোয়েন্দা পুলিসের ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের কাছে। তদন্তে দেখা যায়, ওই দুই মহিলার কাছে যে নম্বরগুলি থেকে ফোন এসেছিল, তার সিমগুলি এ রাজ্যের হলেও, টাওয়ার লোকেশন অনুযায়ী, ফোন আসছে জামতাড়া থেকে। কয়েকটি ফোন এসেছে আসানসোল শিল্পাঞ্চল থেকেও। এরপর জামতাড়া এবং আসানসোলে হানা দিয়ে গ্যাংয়ের মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।