আচমকা চড়া বিদ্যুতের বিলে, নাভিশ্বাস উঠছে ক্ষুব্ধ রাজ্যবাসীর
নিউজ ডেস্ক- বেলঘরিয়ার নিমতায় বাস অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর। তিনমাস অন্তর গড়পরতা তিনি বিদ্যুৎবিল মেটাতেন ১ হাজার ৪০০ টাকার কাছাকাছি। এবার তাঁর বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৫ টাকার!
বিল দেখে মাথায় বজ্রপাত বর্ধমানের এক বাসিন্দারও। গতবারে তিনি বিল মিটিয়েছিলেন হাজার টাকা। এবার বিলের অঙ্ক দু’ হাজার একশো টাকা।
বিরাটিতে ছোট্ট দোকান রয়েছে এক গ্রাহকের। বিলের অঙ্ক দেখে তাঁরও মাথায় হাত! বিদ্যুতের খরচ বাবাদ ১ হাজার ৯৯১ টাকা মিটিয়েছিলেন গতবার। এখন তাঁকে মেটাতে হবে ১০ হাজার ৭০০ টাকা!
বেলঘরিয়া, বর্ধমান, বিরাটি—এই তিনটি এলাকার তিনজনই রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (ডব্লিউবিএসইডিসিএল)-এর গ্রাহক। কলকাতা বাদ দিলে গোটা রাজ্যেই বিদ্যুৎ বণ্টনে একচেটিয়া ব্যবসা করে এই সংস্থা।
কিছুদিন আগে সিইএসসি’র বিদ্যুৎবিল নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন দেখেছে কলকাতা। এবার সেই পথের অনুকরণে গ্রাহকদের লাগামছাড়া বিদ্যুৎবিল ধরাচ্ছে ডব্লিউবিএসইডিসিএল। এমন অভিযোগ শুধু বেলঘরিয়া, বিরাটি কিংবা বারাসাত থেকে ওঠেনি। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, নদীয়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে কমবেশি অভিযোগ আসছে। এমনকী, প্রান্তিক কৃষক, খেটে খাওয়া পরিবারগুলোকেও তিন-চারটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী বাল্ব (এলইডি) জ্বালান সত্ত্বেও প্রচুর টাকা গুনতে হচ্ছে। একেই কোভিড...লকডাউনে রুজিরুটি হারিয়েছেন বহু মানুষ। আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। তার উপর বাড়তি বিদ্যুৎবিলের ধাক্কা!
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কর্তারা বলছেন, ‘কলকাতার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি সংস্থার প্রায় সকল গ্রাহকই অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে খুববেশি সমস্যা হয়নি। কিছু অভিযোগ আসছে। লকডাউনের সময়ে সিংহভাগ গ্রাহকই ঘরবন্দি ছিলেন। ফলে বেশি লাইট, ফ্যান কিংবা এসি চলেছে। তাই বিলের পরিমাণ খানিকটা বেড়েছে। তবে, অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নিচ্ছি। বিল পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মাসিক কিস্তির সুযোগও নিতে পারেন।’ কিন্তু বিলের বর্দ্ধিত অঙ্ক কমানোর ব্যাপারে গ্রাহকদের কোনও আশ্বাস দিতে পারেননি কর্তারা।
অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ মানছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, ‘অভিযোগ আসলেও সংখ্যায় নিতান্ত কম। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। সরকারের স্পষ্ট অবস্থানই গ্রাহকদের কোনওরকম চাপ দেওয়া যাবে না।’ অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদ্যুৎ চৌধুরি অবশ্য বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অধিকাংশ গ্রাহকই বিলকে চ্যালেঞ্জ জানান না। তাই অভিযোগের সংখ্যা কম। আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে চড়া বিলের হাত থেকে গ্রাহকদের সুরাহা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।’
সুরাহা না মেলায় বিল বাবদ বকেয়া টাকার পরিমাণও বাড়ছে। সংস্থা সূত্রে খবর, লকডাউন পিরিয়ড সহ এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা গ্রাহকদের কাছে বকেয়া পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫-৯০ শতাংশই সাধারণ মানুষের বিল। বকেয়া মেটাতে এখন চাপ দিতে শুরু করেছেন আঞ্চলিক কর্তারা।