প্রেমের ফাঁদে ফাঁসিয়ে আসানসোলে অপহরণ গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডের যুবতী, অপহৃত যুবক নিখোঁজ
নিউজ ডেস্ক:- পলক ভারতী নামে ফেসবুক প্রোফাইল, স্ট্যাটাস সিঙ্গল, ফেসবুক ফ্রেন্ড এর সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার, তন্বী, সুন্দরী; ফ্যান-ফলোয়ারদের লাভ রিঅ্যাক্টের ঝড়, লাস্যময়ী আবেদনে পুরুষের মন গলানোয় পটু। বিহারে বিভিন্ন নাচের জলসায় ডাক পড়ত তার। ঝাড়খণ্ডের ওই লাস্যময়ী নর্তকী ক্রমশ জাঁকিয়ে বসেছিল আসানসোলের অপরাধ জগতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসানসোলের যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসানোর ও অপহরণের অভিযোগে জামসেদপুরের পারশুণ্ডির যুবতী পলককুমারী ভারতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এছাড়া এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে ওই লাস্যময়ীর।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি আসানসোল দক্ষিণ থানার অশোক কানু নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে যান। বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছি বলে পরিবারের লোককে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চারদিন পরেও বাড়ি ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করে হতাশ হয়। তার মোবাইলের সুইচও বন্ধ ছিল। তারপর নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁরা। কয়েক মাস পরেই জানতে পারেন, জামসেদপুরের পলক কুমারী ভারতীর প্রেমে পড়েছিল অশোক। তার ডাকেই সে বাড়ি ছেড়েছে। এরপর তাঁরা পুলিসের কাছে পলকের নামে অপহরণের মামলা করলে, ১২মে জামসেদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় পলক। এরপর পুলিসি জেরায় সে স্বীকার করে নেয় উক্ত অপহরণের ছক। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পলকের প্রেমিক বিহার নিবাসী অনুপ যাদবের কথায় অশোককে প্রেমের জালে ফাঁসায় সে। এরপর তাকে জামসেদপুরে আসতে বলে। অনুপের কথা মতোই অশোককে নিয়ে সে বিহারের শিওয়ানে যায় ও তার হাতে অশোককে তুলে দেয়। এরপরই পুলিসে অশোকের খোঁজে নেমে পড়ে, যদিও এখনও তার নাগাল পায়নি। অবশেষে আদালত থেকে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ জারি হতেই আসানসোল কোর্টে এসে গত ২৯ আগস্ট ধরা দেয় অশোক।
২০১৮ সালে আসানসোল দক্ষিণ থানার চেলিডাঙার একটি খুনের ঘটনাতেও তার যোগসাজশ পাওয়া গিয়েছে। তাই তাকে ফের ২ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। এসিপি সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, একটি অপহরণ কাণ্ডের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিন্ন রাজ্যে অশোকের তল্লাশি চলছে।
শিল্পাঞ্চলে অপহরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও সুন্দরী মহিলার টোপ দিয়ে অপহরণ এই প্রথম। উক্ত বিষয়টিকে পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।