বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল জ্যোতিষীদের প্রতারণার অভিনব পদ্ধতি

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল জ্যোতিষীদের প্রতারণার অভিনব পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিনিধি:সাম্প্রতিক কালে আমরা অনলাইন শপিং, অনলাইন পেমেন্ট, সব কিছুকে আমাদের জীবন এর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ফেলেছি। আর, অনলাইনে প্রতারনার পদ্ধতিও বাড়ছে প্রতিদিন । নতুন সংযোগ অনলাইনে ২-৩ ঘন্টায় ভাগ্য ফেরানোর কেরামতি । অন লাইনে বা ফোন এর মাধ্যমে মাত্র কিছু সময় এর ব্যাবধ্যানেই সমস্যার সমাধান করার এ এক অভিনব প্রযুক্তি। সংবাদপত্রে প্রায়ই বিভিন্ন জোতিষীদের বিজ্ঞাপন থেকে থাকে।তার মধ্যে ডিজিটাল প্রতারক জ্যোতিষিদের মহিমায় প্রায় প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ । এইসব ডিজিটাল প্রতারকদের বিজ্ঞাপনে প্রতিনিয়ত লেখা থাকে- ''কালাজাদুর থেকে মুক্তির সমাধান মাত্র ২-৩ ঘন্টায় । ঘরে বসেই ফোনের মাধ্যমে সমাধান হবেই । ১০০ % গ্যারান্টি ।কাজ না হলে টাকা ফেরৎ । কেউ আবার লিখছে -''যদি কোনো জ্যোতিষী ,মোল্লা বা মৌলবী , পন্ডিত , তান্ত্রিক আমার কাজ করে দেখতে পারেন তিনি পুরস্কৃত হবেন ।'' এই রকমই সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপন দেখে বছর বিয়াল্লিশ এর রাজীব ঘোষ ( নাম পরিবর্তিত ) এই কালাজাদুর খপ্পরে পড়েন। আমরা যখন আমাদের জীবনের চলার পথে সর্বক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ি তখন কোনো প্রকার বিবেচনা বিহীন হয়ে জ্যোতিষিদের দ্বারস্থ হয়ে থাকি।ঠিক এভাবেই রাজীব বাবু তার জীবনে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন।

 রাজীব বাবু ,বিজ্ঞাপনে দেওয়া এক জোতিষির নম্বরে ফোন করেন। প্রথমবার ফোনটি  বেজে কেটে যায়। তিনি দ্বিতীয় বার ফোন করলে একজন হিন্দিভাষী মানুষ ফোনটি তোলেন এবং রাজীব বাবুর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান ।এরপর রাজীব বাবুর কাছ থেকে তার সমস্ত কথা শোন বার পর জোতিষী বলে যে রাজীব বাবুকে তার নিকট কোনো এক আত্মীয় কালাজাদু করে রেখেছে।তাই এর প্রতিকার হিসাবে একটি  পুজো করতে হবে ।পুজোর ২-৩ ঘন্টার মধ্যে ফল মিলবে হাতে নাতে । সব বাধা দূর হয়ে যাবেই । আর , এজন্য ১০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে জোতিষীর একাউন্টে । রাজীব বাবু দরাদরি করলে সংখ্যাটা কমে ৫২০০ টাকায় দাঁড়ায় ।
রাজীব বাবু বিশ্বাসে ভোর করে জ্যোতিষীর দিল্লির একাউন্ট -এ ৫২০০ টাকা পাঠান । এরপর ,সেই ডিজিটাল  জোতিষী রাজীব বাবুকে কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন - ধূপকাঠি ,মোমবাতি ,কিছু পরিমান ময়দা ,একটি কালো কাপড়  ইত্যাদি সংঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যে বেলা ভগবানের সামনে বসতে বলে। ডিজিটাল জোতিষী গ্যারান্টি সহ ফোনের মাধ্যমেই  প্রতিকারের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়ে দেয়। সেই সময় রাজীব বাবু কেও তার কথা অনুযায়ী কিছু ক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে তবেই এর ফলাফল মিলবে দ্রুত । এইভাবে জোতিষী রাজীব বাবুকে একের পর এক নিয়মের ঘেরাটোপে ঘিরে ফেলে এবং রাজীব বাবু ও বিশ্বাস এর উপর ভর করে সেই নিয়ম গুলি পালন করতে বাধ্য হন। 
এরপর যথারীতি সন্ধ্যাবেলা রাজীব বাবুর কাছে ফোন আসে ।ফোনেই নির্দেশ দেওয়া হয় ঠাকুরের সামনে আটার গুঁড়ো দিয়ে একটা গোল বৃত্ত তৈরী করে তার মধ্যে আসনে বসার ।
রাজীব বাবুও বিস্বাসে ভর করে আটা দিয়ে গোল বৃত্ত তৈরী করে তার মধ্যে আসনে বসে জ্যোতিষীর পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করতে থাকেন । কিছুক্ষণ পর আবার ফোনে নির্দেশ আরাধ্য ঠাকুরের জপ করার । রাজীব বাবুও তাই করেন । অপর প্রান্ত থেকে উর্দুতে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় অপর একজন জানায় ''রাজীব বাবু বড় কালা জাদুর খপ্পরে পড়েছেন ।তাই , ২০ টা খাসি জবাই করতে হবে । এজন্য ২৫ হাজার টাকা খরচ করতে হবে । নাহলে এর প্রতিকার সম্ভব নয় । রাজীব বাবু নিজের ভুল বুঝতে পারেন । কিন্তু আর কিছুই করার নেই ।  রাজীব বাবু তার জীবনের জর্জরিত সমস্যা থেকে বেরানোর পথ খুঁজতে গিয়ে আরো বিপদে পড়েছেন ওই বিজ্ঞপনের জন্য । রাজীব বাবুর মতো আরও বহু মানুষ প্রতিনিয়িত এই দিল্লী নিবাসী প্রতারক জ্যোতিষিদের দ্বারস্থ হয়ে তাদের  শিকার হচ্ছেন। সর্বোপরি যারা এর পরেও ভাবছেন এইসব জ্যোতিষিদের দ্বারস্থ হবেন তাদের উদ্দশ্যে বলি সচেতন হোন।