ছুটি চেয়েও ছুটি পেলেননা মান্নান হোসেন
বহরমপুর : একসময় মুর্শিদাবাদ জেলার পরিচিতি ছিল কংগ্রেস তথা অধীর চৌধুরীর দুর্গ হিসেবে।অথচ, এখন সেই জেলায় তৃণমূলের জয়জয়াকার । আর, এটা সম্ভব করেছেন যিনি, তিনি হলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মান্নান হোসেন।শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি ছুটে বেড়াতে না পারলেও দৃঢ় মানসিকতা ও সাংগঠনিক দৃঢ়তাকে কাজে লাগিয়ে দলকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন । স্বভাবতই, বর্তমানে জেলায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে৷আর , এর মূল কারিগর জেলা সভাপতি মান্নান হোসেন ।
এহেন একজন নেতা শারীরিক অসুস্থতার জন্য দু-তিন মাসের ছুটি চেয়েছিলেন । কিম্তু, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মান্নান হোসেনকে সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনও ছুটি হবেনা , যেমন ভাবে দল পরিচালনা করে যাচ্ছেন,ঠিক সেই ভাবেই করে যান ;তাতেই চলবে।
মান্নান হোসেনের প্রতি দলনেত্রীর এতটা ভরসা প্রকাশে উচ্ছ্বাসিত জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাও৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ,মান্নান হোসেন দীর্ঘ দিন ধরেই একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন । নিয়মিত তাঁকে ডায়ালিসিসও নিতে হয়৷ফলে,কর্মী সমর্থকদের সব চাহিদা সবসময় পূরণ করতেও পারেন না তিনি ৷এমন কি অধিকাংশ সভাতেই উপস্থিত থাকতে পারেননা তিনি৷তবুও তিনি যেন সর্বত্র বিদ্যমান।এতকিছু সত্ত্বেও মান্নান হোসেনের নেতৃত্বে ও কর্মকুশলতায় তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে ৷ জেলার সব কটি পুরসভা এমনকি জেলা পরিষদও এখন তৃণমূলের দখলে৷
এক্ষেত্রে, তিনি তাঁর ছোট ছেলে সৌমিক হোসেনকে যোগ্য উত্তরসূরী তৈরী করেছেন। সৌমিক হোসেন তাঁর বাবার পরামর্শ মতোই বুথ ভিত্তিক সংগঠনকে চাঙ্গা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন৷আর দলের নিচু তলার কর্মীরাও সৌমিক হোসেনের সাংগঠনিক দূরদর্শিতাকে তাঁর বাবার সাথেই তুলনা করছে৷ তাই,অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মান্নান হোসেন ছুটি চাইলেও তাঁকে ছুটি দেননি স্বয়ং দলনেত্রী৷ বরং কালীঘাটে রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন,কোনও ছুটি হবেনা , যেমন ভাবে দল পরিচালনা করে যাচ্ছেন,ঠিক সেই ভাবেই করে যান ;তাতেই চলবে।