২০১০ এর সেই সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাজেশ গুলাটি যিনি তাঁর স্ত্রীকে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ৭০ টি টুকরোতে কাটেন।

২০১০ এর সেই সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাজেশ গুলাটি যিনি তাঁর স্ত্রীকে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ৭০ টি টুকরোতে কাটেন।

সাত বছর আগে অর্থাৎ ২০১০ এ সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রাজেশ গুলাটি তাঁর ৩৬ বছরের স্ত্রী অনুপমা গুলাটিকে সম্পর্কে বহুদিনের তিক্ততার পর তাঁর নাকে ও মুখে তুলো গুঁজে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। তারপর তাঁকে ইলেকট্রিক করাত দিয়ে টুকরো টুকরো করে ৭০ টা টুকরোয় কাটে ও সেগুলি ডিপফ্রিজে আলাদা আলাদা পলিথিনে ভোরে রেখে দেয়।


  গুলাটি দম্পতির ১৯৯৯ সালে বিবাহ হয় এবং বিবাহের পরই রাজেশের কর্মসূত্রে তাঁরা উভয়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০০৮ সালে স্বদেশে ফেরার পরপরই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তিক্ততা চলে আসে, অনুপমার দাবি যে রাজেশ কলকাতার একটি মহিলার সাথে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িত ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায়ই লড়াই ঝগড়া হত। 

  ২০০৮ সালে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ফিরে আসার পর তাঁদের সম্পর্কে কোন মাধুর্য ছিল না। তার প্রধান কারণ ছিল অনুপমার রাজেশকে সন্দেহ করা। সেই নিয়েই তাঁদের যত অশান্তি। 

  দেরাদুনের প্রকাশ নগরে তাঁদের দুই রুমের ভাড়া বাড়িতে ২০০৮ সালের সতেরোই অক্টোবর এমনি এক অশান্তি হয়। রাজেশ তাঁর স্ত্রীকে থাপ্পড় মারায় অনুপমা তাঁর কপাল দেওয়ালে গিয়ে ঠোকে এবং অচেতন হয়ে পরে। 

  ভীত রাজেশ ভাবেন যে তাঁর স্ত্রীর জ্ঞান ফেরার পর তিনি পুলিশ এ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন। সেই ছোট অভিযোগকে ভয় পেয়ে সেটাকে এড়ানোর জন্য তিনি এক চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

  অনুপমার অচেতনতার সুযোগ নিয়ে তিনি ঠান্ডা মস্তিষ্কে প্রথমে তাঁর স্ত্রীয়ের নাকে ও মুখে তুলো গোঁজে, তারপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাস রুদ্ধ করে খুন করেন। খুনের কোন সূত্র না রাখার জন্য রাজেশ বাজার থেকে একটি ইলেকট্রিক করাত ও পলিথীন ব্যাগ কিনে নিয়ে আসেন। তারপর অনুপমা অর্থাৎ তাঁর সাত পাঁকে ঘোরা স্ত্রীকে তিনি করাতটি দিয়ে ৭০ টি টুকরোতে কাটেন ও সেই টুকরো গুলো পলিথীন ব্যাগে ঢুকিয়ে ডিপফ্রিজের মধ্যে রেখে দেন। দু মাস ধরে সেই ছিন্ন শরীরের অংশগুলি ফ্রীজের মধ্যেই রাখা ছিল। সময় মতন একেকটি পলিথীন ব্যাগ শহরের দূর দূরত্বে গিয়ে ফেলে আসতেন।

  রাজেশ তাঁর চার বছরের যমজ সন্তানদেরকেও জানান যে তাদের মা দিল্লিতে গেছে। অনেকদিন যাবৎ বোনের কোন খবর না পেয়ে অনুপমার দাদা সুজয় কুমার প্রধান রাজেশের বাড়িতে এসে কড়া নারে ও তাঁর বোনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। অপরাধী রাজেশ ঘাবড়ে গিয়ে কোন স্পষ্ট জবাব তো দিতে পরেই না তার সাথে মৃতের দাদাকেও ঘরে প্রবেশ করতে দেয় না।

  রাজেশের আচরণকে সন্দেহ করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বোনের নামে একটা নিখোঁজ অভিযোগ লেখান। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে এসে পুলিশ রাজেশের বাড়িতে তাঁর স্ত্রীয়ের ছিন্ন মস্তক সমেত অন্যান্ন শরীরের অংশ পায়। 

  ধূর্ত রাজেশ গুলাটিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জেলা বিচারক বিনোদ কুমার রাজেশকে খুনের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা ও প্রমান ধ্বংস করার জন্য ২০১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার তাঁর ন্যায্য শাস্তি ঘোষণা করা হবে।